টিকা নিন জীবন বাঁচান (Vaccine Information in Bangladesh)

  

সাম্প্রতিক আফ্রিকা মহাদেশের ইবোলা ভাইরাসের ন্যায়  যক্ষ্মা , ক্যান্সার , বসন্ত ও ডায়রিয়া সহ সংক্রামক ব্যাধিগুলি এক সময় মহামারী আকারে হাজার হাজার মানুষের জীবন অকালে কেড়ে নিত। এসব মরনব্যাধি প্রতিরোধের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষনার ফসল টিকা। এটি যক্ষ্মা ও ক্যান্সারের মত সংক্রামক মরনব্যাধি থেকে নবজাতক শিশু , কিশোরী , গর্ভবতী মা সহ পুরো মানব সমাজকে রক্ষা করে। কিন্তু অজ্ঞতার কারনে আমাদের অনেকেই এখনো জীবন রক্ষাকারী বিজ্ঞানের এই আর্শীবাদ থেকে দূরে থেকে দীর্ঘদিন রোগে ভুগছি , পঙ্গুত্ব বরন করেছি এমনকি অনেকে অকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছি। তাই টিকা নিয়ে জীবন বাচাঁতে সচেতন করতে প্রশ্নোত্তর আকারে আমাদের  এই প্রয়াস।

 

টিকা কি ? 
টিকা হল এমন একটি পদার্থ যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় টিকা হল এমন একটি পদার্থ যা মানুষের অথবা প্রাণীর শরীরে একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য প্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়। | ( Vaccine : A substance that is usually injected into a person or animal to protect against a particular disease .)

 

কেন টিকা নিবেন ?    
টিকা শরীরে সংশ্লিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে আগাম প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ফলে রোগের জীবানু শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই তাকে ধ্বংস করে শরীরকে রোগমুক্ত রাখে। এতে রোগের ভোগান্তি এড়িয়ে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। যার অন্যতম কয়েকটি..........  

  • ০১)  শারীরিক কষ্ট , মানসিক দুঃচিন্তা এবং আর্থিক ক্ষতি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা।
  • ০২)  যে কোন কাজের জন্য নিজেকে শারীরিকভাবে ফিট রাখা।  
  • ০৩)  নিরাপদ রক্ত দিয়ে মুমূর্ষ রোগীর জীবন বাচাঁন যায়।   
  • ০৪)  অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়।      
  • ০৫)  ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রোগমুক্ত রাখা।

 

কার কার টিকা নেয়া অতীব জরুরী ? 
সুস্থ থাকতে ও জীবন বাচাঁতে সকলের জন্য টিকা নেয়া একান্ত প্রয়োজন। তবে নি¤েœ বর্নিতদের টিকা নেয়া অতীব জরুরী....         

  • ০১) পরিবারের বা অফিসের বা বাসস্থানের কোন লোকের কোন সংক্রামক রোগ থাকলে অন্যদের জন্য সংশ্লিষ্ট রোগের টিকা নেয়া।    
  • ০২) পবিত্র হজ্ব- ওমরা / চাকুরী / ভ্রমন / লেখাপড়ার জন্য বিদেশ গমন ইচ্ছুদের জন্য।      
  • ০৩) সন্তান গ্রহণে ইচ্ছুক নারী নিজেকে এবং তার ভবিষ্যৎ সন্তানকে বাচাঁতে।       
  • ০৪) ডায়াবেটিকস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।    
  • ০৫) নবজাতক শিশু।  
  • ০৬) বিয়ে করতে ইচ্ছুক পাত্র-পাত্রী।  
  • ০৭) প্যাথলজি বা রোগ নির্নয় কেন্দ্র , হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং বিউটি পার্লার ও সেলুনে যারা কাজ করেন।

উল্লেখিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্বক ঝুঁকিতে থাকে। তাই তাদের জীবন বাচাঁতে বা রোগ মুক্ত থাকতে অনতিবিলম্বে টিকা গ্রহণ অতীব জরুরী।

 

কখন টিকা নেয়া যাবে না ?             

  • ১) গর্ভবতী মা । তবে এ সময় ধনুস্টংকারের টিকা নেয়া যাবে।      
  • ২) মা  সন্তান প্রসবের পর ৬ মাস ব্যাপি দুধ খাওয়ানোর সময়।  
  • ৩) কোন রোগে আক্রান্ত হলে তা থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সে রোগের টিকা।      
  • ৪) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মত অসুস্থতা বা মুমূর্ষ অবস্থায়।  
  • ৫) টিকা দেয়ার নির্দিষ্ট বয়স ও কোর্স সিডিউল এর পূর্বে। 
  • ৬) কোন টিকায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে উক্ত টিকার পরবর্তী ডোজ সমূহ।

তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নেয়া যেতে পারে।

 

টিকার কোন পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া আছে কি ?
সাধারনত ঃ নেই। তবে মাঝে মধ্যে নি¤œবর্নিত কিছু সমস্যা হলেও তা রোগাক্রান্ত হওয়ার পর যে শারীরিক কষ্ট , মৃত্যুর ঝুঁকি ও মানসিক দুঃশ্চিন্তা এবং আর্থিক অনটন তার তুলনায় টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ক্ষতি অতি নগন্যঃ

  • ১) টিকার স্থান লাল হওয়া , ফুলে যাওয়া , ক্ষত হওয়া। (তবে বিসিজির ক্ষেত্রে ক্ষত হওয়াই টিকার কার্যকারিতার লক্ষণ )      
  • ২) একটু ব্যথা ও জ্বর হওয়া।    
  • ৩) টিকা প্রদানের আশেপাশে চুলকানো।       
  • ৪) বাচ্চাদের অনবরত কান্না।
  • ৫) খিচুঁনী হলে।  

 

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রতিকার / চিকিৎসা আছে কি ?
হ্যাঁ , আছে। টিকার পার্শ¦ প্রতিক্রিয়া সাময়িক। এগুলো ২ / ৩ দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যাবে। চিকিৎসা নেওয়ার দরকার নেই। তবে নিন্ম বর্নিত প্রতিক্রিয়ায় চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে...........   

  • ক) জ্বর ১০০ ডিগ্রি ফারেন হাইটের বেশী হলে।       
  • খ) বাচ্চাদের অনবরত কান্না একদিনের বেশী হলে।     
  • গ) বিসিজি ব্যতীত অন্য টিকার ক্ষেত্রে ফোঁড়া বা ক্ষত হলে।
  • ঘ) খিচুঁনী হলে।

 

টিকা গ্রহনের প্রক্রিয়া কি ? 

  • ১) নবজাতক শিশু , কিশোরী ও গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে টিকা কেন্দ্রে গিয়ে টিকার কার্ডে দেওয়া সিডিউল অনুযায়ী গ্রহন করা।      
  • ২) অন্য সকলের ক্ষেত্রে রক্ত বা অন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে রোগ মুক্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট রোগের টিকা চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত টিকাদানকারীর পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করতে হবে।       
  • ৩) আক্রান্ত রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেয়ার পর রোগমুক্ত হলে টিকা দিতে পারবে।

 

টিকা কখন কাজ করে না ?        

  • ১) সংশ্লিষ্ট রোগে আক্রান্ত অবস্থায় টিকা গ্রহন করলে। 
  • ২) সিডিউল মেনে গ্রহন না করলে।  
  • ৩) কোর্স সম্পূর্ণ না করলে।     
  • ৪) প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দ্বারা টিকা গ্রহন না করলে।        
  • ৫) মেয়াদ উর্ত্তীন টিকা গ্রহণ করলে।           
  • ৬) টিকা গ্রহণের পূর্বে তা যথাযথ Cold Chain Maintain না হলে।          
  • ৭) পরিমান মত টিকা গ্রহণ না করলে।

 

টিকা গ্রহনের পর কি কি করা যাবে না ?

  • ১. টিকার স্থান ম্যাসেজ করা।
  • ২. বিসিজি টিকার স্থান পুশিং এর পর থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে পানিতে ভেজান এবং সেখানে সাবান , স্যাভলন  মলম , তেল , লোশনসহ কোন কিছু লাগানো।

 

পাইওনিয়ার হেলথ সার্ভিসেস লিঃ ” থেকে কেন টিকা গ্রহন করবেন ?   

 “ পাইওনিয়ার হেলথ সার্ভিসেস লিঃ ” সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও কারিগরী সহায়তায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডের হাতিরপুল , এলিফ্যান্ট রোড , কাঁটাবন ও নিউমার্কেট এলাকায় দীর্ঘ দিন যাবত নিয়মিত ইপিআই , হাম-রুবেলা , পোলিও , ভিটামিন এ ক্যাপসুল , কৃমিনাশক ট্যাবলেট ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে আসছে। ফলে প্রতিষ্ঠানকে এসব এলাকার প্রায় প্রতিটি শিশু এবং গর্ভনমেন্ট ল্যাবরেটরী স্কুল, বিসিএসআইআর হাই স্কুল , সাহবানিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ অত্র এলাকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র- ছাত্রীদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , ইডেন মহিলা কলেজ ,  হোম ইকোনমিক্স কলেজ , সরকারী টির্চাস ট্রেনিং কলেজ , ভিকারুননেসা নুন স্কুল এন্ড কলেজ , অগ্রনী স্কুল এন্ড কলেজ , সোনালী ব্যাংক , ইসলামী ব্যাংক , পাট ও বস্ত্র মন্ত্রনালয় , স্মার্ট গ্রুপ এবং ফাষ্ট গ্রুপ সহ বহু সরকারী বেসরকারী আর্থিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে ব্যাপক সুনাম ও আস্থা অর্জন করে। যা দৈনিক ইত্তেফাক ও আরটিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এসবের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য। যা আমাদেরকে টিকাদান কর্মসূচি পালন সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে করেছে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী। যার অন্যতম কয়েকটি নি¤œরুপ.........

  • ০১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর , ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অফিস , গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিঃ এবং স্যানোফি সহ সংশ্লিষ্ট সকলের অনুমোদন ও কারিগরী সহায়তা প্রাপ্ত। তাছাড়া তাদের থেকেই যথাযথ মান ও তাপমাত্রায় টিকা সংগ্রহ করা হয়।  
  • ০২) মজুদকরন ও সরবরাহ সকল যথাযথ Cold Chain Maintain করা হয়।      
  • ০৩) State Medical Faculty থেকে ডিপ্লোমা পাশ এবং ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় থেকে টিকার উপর বিশেষ প্রশিক্ষন প্রাপ্ত পুরুষ ও মহিলা ভ্যাকসিনেটরের মাধ্যমে টিকা পুশিং করা হয়।      
  • ০৪) আমাদের কার্যক্রম পরিদর্শন পূর্বক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) স্থানীয় প্রতিনিধি আমাদের প্রশংসা করেছেন।  
  • ০৫) বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিভাগের প্রাপ্তন চেয়ারম্যান ও প্রফেসর এ্যামিরিটাস এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির ( ইপিআই ) এর একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতিমান বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নুরুল ইসলাম এবং বিশিষ্ট গাইনী বিশেষজ্ঞ বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনী বিভাগের কনস্যালটেন্ট ও গর্ভবতী মা সহ মহিলাদের ভ্যাকসিনে অভিজ্ঞ ডাঃ নার্গিস সুলতানা সুমীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত।    
  • ০৬) মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপকগনের তত্ত্বাবধানে নিজস্ব ডিজিটাল ডায়গনষ্টিক সেন্টারে রক্ত ও নমুনা পরীক্ষা করে যোগ্য ব্যক্তিকে টিকা দেয়া হয়।           
  • ০৭) সংশ্লিষ্ট রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিজস্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগনের মাধ্যমে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
  • ০৮) সামান্য সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে বাসায় বা অফিসে গিয়ে হোম সার্ভিসে টিকা দেয়া হয়।  
  • ০৯) সঠিক সময়ে কোর্স সম্পূর্ন করার জন্য “ ভ্যাকসিন সিডিউল কার্ড ” দেয়া , ভ্যাকসিন গ্রহনকারীদের তথ্য সংরক্ষন এবং নির্ধারিত সময়ের পূর্বে ভ্যাকসিন নেয়ার তারিখ  ফোন , ই-মেইল ও এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।     
  • ১০) ভ্যাকসিনেশনে প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত দক্ষ একদল কর্মী প্রতিদিন সেবার জন্য অপেক্ষমান।     
  • ১১) যক্ষ্মা , পোলিও , হাম , রুবেলা , ইনফ্লুয়েঞ্জা , টিটেনাস , নিউমোনিয়া , হেপাটাইটিস এ , হেপাটাইটিস বি , জরায়ুমুখ ক্যান্সার , টাইফয়েড ,  ডায়রিয়া  ও জলাতঙ্ক সহ প্রায় সকল সংক্রামক রোগের টিকা একত্রে পাবেন।